স্বাস্থ্য পরামর্শ

ডেস্কের কাজে কম সময় বসে থাকা

এই পাতাটি যন্ত্রের সাহায্যে অনুবাদ করা হয়েছে

এই অনুবাদ এখনও কোনো ডাক্তার যাচাই করেননি। অর্থ ঠিক থাকার কথা, তবে কিছু অস্পষ্ট মনে হলে ইংরেজি মূলটি পড়ুন।

ইংরেজি মূল পড়ুন
এই তথ্য শুধুমাত্র জানার জন্য। এই তথ্য কেবল শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে সবসময় যোগ্য ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
ডেস্কের কাজে কম সময় বসে থাকা

একটানা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে, তা আপনি নিয়মিত শরীরচর্চা করেন কি না তার ওপর নির্ভর করে না। যেকোনো বিশেষ চেয়ারের চেয়ে প্রতি আধা ঘণ্টা পরপর বসা থেকে বিরতি নেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সংক্ষেপে

  • প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পরপর অন্তত এক বা দুই মিনিটের জন্য বসা থেকে বিরতি দিন
  • প্রতিবার খাওয়ার পর কিছুটা সময় হাঁটা রক্তের শর্করা (blood sugar) নিয়ন্ত্রণে বেশ সাহায্য করে
  • আপনার স্ক্রিন এমনভাবে রাখুন যাতে সেটির ওপরের অংশটি প্রায় আপনার চোখের সমান উঁচুতে থাকে
  • ফোন দেখার সময় ঘাড় নিচের দিকে না বাঁকিয়ে ফোনটিকে চোখের সমান উঁচুতে তুলে ধরুন
  • সন্ধ্যাবেলা শরীরচর্চা করলেও সারাদিনে দশ ঘণ্টা বসে থাকার ক্ষতি পুরোটা দূর হয় না

একটানা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে ডায়াবেটিস (diabetes), হৃদরোগ এবং পিঠের ব্যথার ঝুঁকি বাড়ে — এবং যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন তাদের ক্ষেত্রেও এটি সত্যি। এই বিষয়টিই বেশিরভাগ মানুষকে অবাক করে: সকাল ৯টা থেকে একভাবে বসে থাকার ক্ষতি সন্ধ্যা ৭টায় শরীরচর্চা বা ওয়ার্কআউট (workout) করলেও পুরোপুরি সারে না।

সবচেয়ে কার্যকর উপায়টি দাঁড়িয়ে কাজ করার ডেস্ক (standing desk) কেনা নয়। এটি হলো বসার মাঝে বিরতি নেওয়া। প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পরপর অন্তত এক মিনিটের জন্য হলেও উঠে দাঁড়ান — জলের বোতল ভরে নিন, দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলুন, বা কাউকে মেসেজ না পাঠিয়ে হেঁটে গিয়ে কথা বলুন।

দুপুরের খাবারের পর ১০ মিনিট হাঁটা একজন অফিসকর্মীর জন্য খুবই উপকারী একটি অভ্যাস। এটি একটানা বসে থাকায় বিরতি দেয় এবং খাওয়ার পর রক্তের শর্করা (blood sugar) হঠাৎ বেড়ে যাওয়া কমায়।

আপনার ডেস্ক যেভাবে সাজাবেন: স্ক্রিনের ওপরের অংশটি প্রায় চোখের সমান উঁচুতে থাকা উচিত, যাতে আপনাকে নিচের দিকে তাকাতে না হয়। কনুই ৯০ ডিগ্রি কোণে থাকবে, পা মেঝেতে সোজা রাখা থাকবে এবং পিঠের নিচের অংশে সাপোর্ট থাকবে। টেবিলের ওপর ল্যাপটপ রাখলে ঘণ্টা পর ঘণ্টা মাথা নিচু করে রাখতে হয়, যা ঘাড় ব্যথার একটি সাধারণ কারণ — সম্ভব হলে বইয়ের ওপর রেখে ল্যাপটপ উঁচু করুন এবং আলাদা কিবোর্ড (keyboard) ব্যবহার করুন।

আপনার ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একইভাবে নজর দেওয়া দরকার। কোমর সমান উঁচুতে ফোন ধরে রেখে মাথা ঝুকিয়ে দেখলে ঘাড়ে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ঘাড় নিচের দিকে না বাঁকিয়ে ফোনটিকে চোখের সামনে তুলে ধরুন।

এর কোনোটিই কিন্তু শরীরচর্চার বিকল্প নয়। সপ্তাহে নির্দিষ্ট ১৫০ মিনিট শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার চেষ্টা অব্যাহত রাখুন — কারণ এই দুটি বিষয় আলাদা আলাদা সমস্যার সমাধান করে।

সাধারণ প্রশ্ন

আমার কি দাঁড়িয়ে কাজ করার বিশেষ ডেস্কের (standing desk) প্রয়োজন আছে?

প্রয়োজন নেই। ঘণ্টা পর ঘণ্টা একভাবে দাঁড়িয়ে থাকলেও নানা ধরনের ব্যথা হতে পারে। সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে নিয়মিত বসার ধরণ বদলানো এবং প্রতি আধা ঘণ্টায় একটু নড়াচড়া করা, যা আপনি সাধারণ ডেস্কেও করতে পারেন।

নিয়মিত জিমে গেলে কি সারাদিন বসে থাকার ক্ষতি পূরণ হয়ে যায়?

জিমে যাওয়া অনেক সাহায্য করে, কিন্তু এটি বসে থাকার ক্ষতি পুরোপুরি দূর করতে পারে না। শরীরচর্চা করার পাশাপাশি একটানা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকাও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তাই ব্যায়াম করার পাশাপাশি বসার মাঝে বিরতি নেওয়াটাও জরুরি।

কম্পিউটারে কাজ করার সময় কতক্ষণ পর পর বিরতি নেওয়া উচিত?

প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর পর, এমনকি বিরতিটা মাত্র এক বা দুই মিনিটের হলেও হবে। উঠে দাঁড়ানো, জলের বোতল ভরতে যাওয়া বা সামান্য একটু হাঁটাচলাই যথেষ্ট — কতক্ষণ বিরতি নিচ্ছেন তার চেয়ে কত ঘনঘন বিরতি নিচ্ছেন সেটাই আসল। এছাড়া প্রতিবার খাওয়ার পর অল্প সময় হাঁটলেও রক্তের শর্করা (blood sugar) লক্ষণীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকে।

এই তথ্য শুধুমাত্র জানার জন্য। এই তথ্য কেবল শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে সবসময় যোগ্য ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
চিকিৎসা পর্যালোচক
যোগ্য ডাক্তারের পর্যালোচনা বাকি আছে

সূত্র