এই পাতাটি যন্ত্রের সাহায্যে অনুবাদ করা হয়েছে
এই অনুবাদ এখনও কোনো ডাক্তার যাচাই করেননি। অর্থ ঠিক থাকার কথা, তবে কিছু অস্পষ্ট মনে হলে ইংরেজি মূলটি পড়ুন।
ইংরেজি মূল পড়ুনটাইপ ২ ডায়াবেটিস (Type 2 diabetes)-এর জন্য সাধারণত মেটফর্মিন (Metformin)-ই প্রথম ওষুধ হিসেবে দেওয়া হয়। এটি মূলত লিভার বা যকৃৎ থেকে রক্তে শর্করা নির্গমনের পরিমাণ কমিয়ে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে।
- ওষুধ
- Metformin hydrochloride
- Brands
- Glycomet, Glucophage, Obimet, Carbophage
কীসের জন্য ব্যবহার হয়
- টাইপ ২ ডায়াবেটিস (Type 2 diabetes) — সাধারণত এটিই প্রথম শুরু করা ওষুধ
- প্রি-ডায়াবেটিস (Prediabetes) — কিছু উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা মানুষের ক্ষেত্রে, খাদ্যভ্যাস ও দৈহিক পরিশ্রমের পরিবর্তনের পাশাপাশি
- পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (Polycystic ovary syndrome / PCOS) — কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে
এটি কীভাবে কাজ করে
মেটফর্মিন (Metformin) আপনার লিভার বা যকৃৎ থেকে রক্তে গ্লুকোজ (Glucose) ছাড়ার পরিমাণ কমিয়ে দেয় এবং শরীরের কোষগুলোকে ইনসুলিন (Insulin)-এর প্রতি আরও ভালোভাবে সাড়া দিতে সাহায্য করে। এটি অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াসকে জোর করে বেশি ইনসুলিন তৈরিতে বাধ্য করে না, তাই একা এই ওষুধটি খেলে রক্তের শর্করা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি প্রায় থাকে না বললেই চলে।
এটি কীভাবে খাবেন
- খাবারের সাথে বা খাওয়ার ঠিক পরপরই এটি খাবেন। এতে পেটের অস্বস্তি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।
- এক্সটেন্ডেড-রিলিজ ট্যাবলেট (Extended-release tablets) (যাতে SR বা XR লেখা থাকে) চিবানো বা গুঁড়ো না করে গোটা গিলে খাবেন। গুঁড়ো করলে পুরো ওষুধটি একসাথে শরীরে ঢুকে যায়।
- প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ওষুধটি খাবেন।
- যদি কোনো একটি মোড় ভুলবশত বাদ পড়ে যায়, তবে পরবর্তী খাবারের সাথে সেটি খেয়ে নিন। ভুলটি সামলাতে কখনো একসাথে দুটো ওষুধ খাবেন না।
সতর্কতা
- ওষুধ শুরু করার আগে এবং মাঝেমধ্যে চিকিৎসা চলাকালীন আপনার ডাক্তার আপনার কিডনির কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করবেন।
- কন্ট্রাস্ট ডাই (Contrast dye) সহ সিটি স্ক্যান (CT scan) বা যেকোনো অস্ত্রোপচারের আগে আপনি যে মেটফর্মিন নিচ্ছেন, তা ডাক্তার বা রেডিওলজিস্টকে জানান — এই পরীক্ষা বা অস্ত্রোপচারের সময় এটি সাধারণত কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়।
- দীর্ঘদিন ব্যবহারে ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12)-এর মাত্রা কমে যেতে পারে, তাই মাঝে মাঝে এটি পরীক্ষা করে দেখা হয়।
- ওষুধ চলাকালীন অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।
- আপনার শর্করার মাত্রা ভালো দেখালেও নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করবেন না বা ডোজ পরিবর্তন করবেন না।
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- বমি বমি ভাব এবং পেট ভরা ভরা লাগা
- পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া (Diarrhoea)
- মুখে ধাতব স্বাদ বা মেটালিক টেস্ট পাওয়া
- ক্ষুধামন্দা বা খাওয়ার অরুচি
- পেটে অস্বস্তি বা গ্যাস
- ওষুধ শুরু করার সময় এগুলো সাধারণ সমস্যা এবং সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়। খাওয়ার পর ট্যাবলেট খেলে বা সাসটেইন্ড-রিলিজ (Sustained-release) ফর্মে বদলে নিলে প্রায়শই এই সমস্যা কমে যায়।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা
- ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস (Lactic acidosis) একটি বিরল কিন্তু মারাত্মক জটিলতা, যা বিশেষ করে কিডনি বা লিভারের মারাত্মক সমস্যা, শরীরে তীব্র জলশূন্যতা বা অতিরিক্ত মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
- আপনার যদি অস্বাভাবিক বা মারাত্মক ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা বা টান ধরা, শ্বাসকষ্ট, তীব্র বমি, পেটে ব্যথা বা অস্বাভাবিক ঠান্ডা বোধ হয়, তবে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন।
- বমি বা ডায়রিয়ার কারণে তীব্র জলশূন্যতা দেখা দিলে ওষুধ খাওয়া বন্ধ রেখে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
সাধারণ প্রশ্ন
মেটফর্মিন (Metformin) কি খাওয়ার আগে না পরে খাওয়া উচিত?
খাবারের সাথে বা খাওয়ার ঠিক পরপরই খাবেন। খালি পেটে খেলে বমি বমি ভাব এবং পাতলা পায়খানা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
মেটফর্মিন (Metformin) কি রক্তের শর্করা খুব বেশি কমিয়ে দেয়?
একা এই ওষুধ খেলে এমনটা খুব কমই ঘটে, কারণ এটি প্যানক্রিয়াসকে অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি করতে বাধ্য করে না। তবে এটি যখন সালফোনিলইউরিয়া (Sulfonylureas) বা ইনসুলিন (Insulin)-এর মতো অন্যান্য ডায়াবেটিসের ওষুধের সাথে খাওয়া হয়, তখন রক্তের শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
আমার শর্করা স্বাভাবিক হয়ে গেলে কি আমি মেটফর্মিন (Metformin) বন্ধ করতে পারি?
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া একদম নয়। স্বাভাবিক রিডিং বা মাত্রার মানে হলো চিকিৎসাটি কাজ করছে, ডায়াবেটিস সেরে গেছে এমন নয়। আপনার পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ডাক্তারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই যেকোনো পরিবর্তন করা উচিত।
মেটফর্মিন (Metformin) কি ওজন কমায়?
কিছু মানুষের মেটফর্মিন খেলে সামান্য ওজন কমতে পারে, সাধারণত কয়েক কেজি। তবে এটি ওজন কমানোর ওষুধ নয় এবং সেই উদ্দেশ্যে এটি খাওয়া উচিত নয়।
মেটফর্মিন (Metformin)-এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো কী কী?
এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো পেটের সাথে সম্পর্কিত: বমি বমি ভাব, পেট ভরা ভরা লাগা, পাতলা পায়খানা, মুখে ধাতব স্বাদ এবং ক্ষুধা কমে যাওয়া। ওষুধ শুরু করার সময়ে এগুলো স্বাভাবিক এবং সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কমে যায়। খাওয়ার পর ট্যাবলেট খেলে বা সাসটেইন্ড-রিলিজ (Sustained-release) ফর্মে বদলে নিলে এটি বেশ কাজে দেয়।