এই পাতাটি যন্ত্রের সাহায্যে অনুবাদ করা হয়েছে
এই অনুবাদ এখনও কোনো ডাক্তার যাচাই করেননি। অর্থ ঠিক থাকার কথা, তবে কিছু অস্পষ্ট মনে হলে ইংরেজি মূলটি পড়ুন।
ইংরেজি মূল পড়ুনঅনডানসেট্রন (Ondansetron) বমি বমি ভাব এবং বমি বন্ধ করে। এটি বেশ কার্যকরী, তবে এটি কেবল উপসর্গের চিকিৎসা করে — পেটের ইনফেকশনে, শরীরে জলের অভাব পূরণ করাই (rehydration) আসল কাজ।
- ওষুধ
- Ondansetron hydrochloride
- Brands
- Emeset, Ondem, Vomiraf, Zofer, Emset
কীসের জন্য ব্যবহার হয়
- ক্যান্সারের চিকিৎসা যেমন কেমোথেরাপি (chemotherapy) বা রেডিওথেরাপির (radiotherapy) কারণে হওয়া বমি বমি ভাব ও বমি
- অপারেশন বা সার্জারির পর বমি বমি ভাব ও বমি
- পেটের ইনফেকশন থেকে অতিরিক্ত বমি হলে, যখন ডাক্তার মনে করেন এটি দেওয়া প্রয়োজন
- গর্ভাবস্থায় মারাত্মক বমির কিছু ক্ষেত্রে, তবে কেবল বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী
এটি কীভাবে কাজ করে
পেট এবং মস্তিষ্ক থেকে সিগন্যাল (serotonin) মস্তিষ্কের বমি নিয়ন্ত্রণকারী অংশে পৌঁছালে বমি শুরু হয়। অনডানসেট্রন (Ondansetron) সেই সিগন্যালগুলোকে আটকে দেয়, যার ফলে অন্যান্য ওষুধে যেসব বমি বমি ভাব কমতে চায় না, তাতেও এটি ভালো কাজ করে।
এটি কীভাবে খাবেন
- মুখে গলে যাওয়া ট্যাবলেটটি (mouth-dissolving tablet) জিহ্বার ওপর রেখে গলতে দিন — জল দিয়ে গিলে খাবেন না। শুকনো হাতে ওষুধ ধরবেন।
- সাধারণ ট্যাবলেট খাবারের আগে বা পরে নেওয়া যেতে পারে।
- বমি কমে গেলেও অল্প অল্প করে ওআরএস (ORS - Oral Rehydration Solution) বা খাওয়ার স্যালাইন খেতে থাকুন। বমি বন্ধ হওয়া মানেই শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ হয়ে যাওয়া নয়।
- ঘরের স্থায়ী ওষুধ হিসেবে রেখে না দিয়ে, ডাক্তার যতটুকু সময় খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ঠিক ততটুকুই ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
- আপনার যদি হৃদস্পন্দনের ছন্দে (heart rhythm) কোনো সমস্যা থাকে, বা পরিবারে হঠাৎ হৃদরোগে মৃত্যুর ইতিহাস থাকে, তবে ডাক্তারকে জানান।
- আপনার লিভারের সমস্যা থাকলে এবং অন্য কোনো ওষুধ খেলে ডাক্তারকে তা জানান — কারণ বেশ কিছু ওষুধের সাথে এটির বিক্রিয়া হতে পারে।
- কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া খুবই সাধারণ। বমি কমলে এবং জল খেতে পারলে পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল বা জল খান।
- এটি মূল কারণের চিকিৎসা না করে কেবল উপসর্গ কমায়। বমি বন্ধ না হলে, বা পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অথবা রক্তের সঙ্গে বমি হলে ডাক্তার দেখানো জরুরি।
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- মাথাব্যথা
- কোষ্ঠকাঠিন্য
- ক্লান্তি ভাব
- মুখ বা শরীর লাল হয়ে যাওয়া বা গরম লাগা
- হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক ছন্দে পরিবর্তন, যা নিজে টের পাওয়ার চেয়ে ইসিজি (ECG) পরীক্ষায় ধরা পড়ে
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা
- পেটের ইনফেকশন বা গ্যাস্ট্রোএন্টারাইটিসে (gastroenteritis) মানুষকে মারাত্মক অসুস্থ করে তোলে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন, শুধু বমি নয়। ওআরএস (ORS) বা খাওয়ার স্যালাইনই এর আসল চিকিৎসা। বমির ওষুধ খেলে স্যালাইন পেটে রাখা সহজ হতে পারে, তবে এটি স্যালাইনের বিকল্প নয়।
- বমির সাথে প্রচণ্ড পেটে ব্যথা, বমিতে রক্ত, জ্বরের সাথে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি বা পানিশূন্যতার লক্ষণ (যেমন: খুব কম প্রস্রাব হওয়া, চোখ বসে যাওয়া বা অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা) থাকলে দ্রুত ডাক্তারের সাহায্য নিন।
- এটি হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে বেশি মাত্রায় খেলে, হৃদরোগের রোগী হলে বা অন্য কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের সাথে খেলে।
- আগের বেঁচে যাওয়া অনডানসেট্রন ওষুধ পরবর্তী কোনো অসুখে ব্যবহার করবেন না এবং ডাক্তার বাচ্চার জন্য নির্দিষ্টভাবে না লিখে দিলে কোনো শিশুকে এটি দেবেন না।
সাধারণ প্রশ্ন
অনডানসেট্রন কি ফুড পয়জনিং বা খাবার থেকে বিষক্রিয়া ভালো করে?
না। এটি বমি বন্ধ করে, যা আপনাকে অনেকটা স্বস্তি দিতে পারে এবং পেটে জল বা তরল ধরে রাখতে সাহায্য করে, কিন্তু এটি ইনফেকশনের কোনো চিকিৎসা করে না। আসল চিকিৎসা হলো শরীরে জলের অভাব পূরণ করা — অর্থাৎ অল্প অল্প করে ঘন ঘন ওআরএস (ORS) বা খাওয়ার স্যালাইন খাওয়া।
অনডানসেট্রন কত দ্রুত কাজ করে?
সাধারণত ট্যাবলেট খাওয়ার আধ ঘণ্টার মধ্যে কাজ শুরু হয়, এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে দিলে আরও দ্রুত কাজ করে। এই ওষুধ খাওয়ার পরও যদি বমি হতে থাকে, তবে অতিরিক্ত ওষুধ না খেয়ে ডাক্তার দেখানো উচিত।
গর্ভাবস্থায় কি অনডানসেট্রন খাওয়া নিরাপদ?
গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত বমি হলে মাঝে মাঝে এটি ব্যবহার করা হয়, তবে তা কেবল বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে এর ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তাই ঘরে পড়ে থাকা পাতা থেকে না খেয়ে এটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ডাক্তারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।
অনডানসেট্রন-এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো কী কী?
মাথাব্যথা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, পাশাপাশি ক্লান্তি এবং শরীর গরম লাগার অনুভূতি হতে পারে। এটি হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক ছন্দেও প্রভাব ফেলতে পারে, তাই এটিকে সাধারণ গৃহস্থালি ওষুধ হিসেবে বিক্রির বদলে ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়।