এই পাতাটি যন্ত্রের সাহায্যে অনুবাদ করা হয়েছে
এই অনুবাদ এখনও কোনো ডাক্তার যাচাই করেননি। অর্থ ঠিক থাকার কথা, তবে কিছু অস্পষ্ট মনে হলে ইংরেজি মূলটি পড়ুন।
ইংরেজি মূল পড়ুনপ্যারাসিটামল (Paracetamol) হলো একটি সাধারণ ওষুধ যা জ্বর কমাতে এবং হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা উপশম করতে ব্যবহৃত হয়। সঠিক মাত্রায় খেলে এটি সাধারণত নিরাপদ, কিন্তু বেশি মাত্রায় খেলে (ওভারডোজ) লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
- ওষুধ
- Paracetamol
- Brands
- Dolo 650, Crocin, Calpol, Metacin, Pacimol
কীসের জন্য ব্যবহার হয়
- জ্বর কমানো
- মাথাব্যথা
- শরীর ব্যথা এবং মাংসপেশির ব্যথা
- দাঁতের ব্যথা
- পিরিয়ডের ব্যথা
- ছোটখাটো আঘাতের পরের ব্যথা
- ডেঙ্গু হলে সাধারণত এই ওষুধটিই জ্বর কমানোর জন্য বেছে নেওয়া হয়, কারণ অন্য কিছু যন্ত্রণানাশক ওষুধের মতো এটি রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায় না
এটি কীভাবে কাজ করে
প্যারাসিটামল (Paracetamol) প্রধানত মস্তিষ্কে কাজ করে, যেসব সংকেত ব্যথা তৈরি করে এবং শরীরের তাপমাত্রা বাড়ায় সেগুলোকে কমিয়ে দেয়। আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen)-এর মতো ওষুধগুলির মতো এতে ফোলা কমানোর ক্ষমতা (অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি প্রভাব) নেই বললেই চলে, তাই এটি ফোলা কমায় না।
এটি কীভাবে খাবেন
- এটি খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যেতে পারে। তবে পেটে অস্বস্তি হলে খাবারের পর খাওয়াই ভালো।
- ট্যাবলেটটি এক গ্লাস ভর্তি জল দিয়ে গিলে খাবেন।
- প্যাকেটে লেখা সময়ের ব্যবধান অনুসারেই পরবর্তী ডোজ নেবেন। সময়ের আগেই পরবর্তী ডোজ খাওয়া হলো শরীরে ওষুধের মাত্রা বেশি হয়ে যাওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
- শিশুদের জন্য ওষুধের বোতলের সাথে থাকা মেজারিং কাপ বা ড্রপার ব্যবহার করুন। রান্নার চামচ দিয়ে মেপে ওষুধ দিলে সঠিক পরিমাণ পাওয়া যায় না।
সতর্কতা
- শিশুদের ক্ষেত্রে ওষুধের পরিমাণ বা ডোজ তাদের বয়সের ওপর নয়, ওজনের ওপর নির্ভর করে। আপনার শিশুর বর্তমান ওজন অনুযায়ী সঠিক মাত্রা জানতে ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন।
- প্যাকেটে লেখা সারাদিনের সর্বোচ্চ পরিমাণের চেয়ে বেশি ওষুধ কখনোই খাবেন না। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত দিনে ৩ থেকে ৪ গ্রাম পর্যন্ত হয়, তবে আপনার ওষুধের প্যাকেট এবং ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
- অন্য যেসব ওষুধ খাচ্ছেন সেগুলির উপাদান দেখে নিন। সর্দি, ফ্লু বা ব্যথার অনেক মিশ্র ওষুধেই আগে থেকে প্যারাসিটামল থাকে, ফলে অজান্তেই জোড়া ডোজ খেয়ে ফেলার ঝুঁকি থাকে।
- আপনার যদি লিভারের রোগ থাকে, নিয়মিত মদ পান করেন, ওজন অনেক কম হয় বা পুষ্টির অভাব থাকে, তবে ডাক্তারকে জানান — এই ক্ষেত্রগুলিতে ওষুধের নিরাপদ মাত্রা আরও কম হয়।
- যদি জ্বর তিন দিনের বেশি বা ব্যথা পাঁচ দিনের বেশি সময় ধরে থাকে, তবে নিজে নিজে ওষুধ না চালিয়ে ডাক্তার দেখান।
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- সঠিক মাত্রায় খেলে বেশিরভাগ মানুষের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না
- মাঝে মাঝে বমি বমি ভাব বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে
- কদাচিৎ চামড়ায় র্যাশ (Skin rash) দেখা দিতে পারে
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা
- প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেলে লিভারের মারাত্মক, এমনকি প্রাণঘাতী ক্ষতি হতে পারে। প্যারাসিটামলের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি এটিই।
- ওভারডোজের প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রোগী একদম স্বাভাবিক বোধ করতে পারেন। কিন্তু পরের দিনগুলোতে ধীরে ধীরে লিভারের ক্ষতি হতে থাকে। তাই কোনো লক্ষণ দেখা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না।
- আপনি বা অন্য কেউ যদি ভুল করে বেশি প্যারাসিটামল খেয়ে ফেলেন, তবে কোনো লক্ষণ না থাকলেও অবিলম্বে হাসপাতালের এমার্জেন্সিতে যান। এর একটি কার্যকরী প্রতিষেধক (Antidote) আছে, যা দ্রুত দিলে সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
- প্যারাসিটামল খাওয়ার সময় নিয়মিত মদ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
সাধারণ প্রশ্ন
কতটা প্যারাসিটামল খাওয়া ক্ষতিকর বা বেশি?
আপনার প্যাকেটে লেখা সারাদিনের সর্বোচ্চ মাত্রা — প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সাধারণত ৩ থেকে ৪ গ্রাম — ছাড়িয়ে গেলে লিভার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। মানুষ সাধারণত ভুল করে সাধারণ প্যারাসিটামল ট্যাবলেটের পাশাপাশি সর্দি বা ফ্লু-এর অন্য কোনো মিশ্র ওষুধ খেয়ে ফেলে যেটিতেও প্যারাসিটামল থাকে, আর এভাবেই অজান্তে ওভারডোজ হয়ে যায়।
আমি কি খালি পেটে প্যারাসিটামল খেতে পারি?
হ্যাঁ। আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen)-এর মতো ব্যথানাশক ওষুধের মতো প্যারাসিটামল সাধারণত পেটের ভেতরে জ্বালা তৈরি করে না, তাই এটি সাধারণত খালি পেটেও খাওয়া যায়।
ডেঙ্গু হলে কি প্যারাসিটামল খাওয়া নিরাপদ?
ডেঙ্গু হলে সাধারণত প্যারাসিটামলই জ্বর কমানোর পছন্দের ওষুধ কারণ এটি রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায় না। অ্যাস্পিরিন (Aspirin) বা আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ এই সময় এড়িয়ে চলা হয়। তবে সব সময় চিকিৎসা করা ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
ডোলো ৬৫০ (Dolo 650) কি প্যারাসিটামলই?
হ্যাঁ। ডোলো ৬৫০ (Dolo 650) হলো একটি ব্র্যান্ডের নাম যাতে ৬৫০ মিলিগ্রাম প্যারাসিটামল থাকে। ক্রোসিন (Crocin), কালপল (Calpol) এবং আরও বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডেও একই ওষুধ থাকে, যা কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন শক্তিতে (mg) হতে পারে।
প্যারাসিটামলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী?
সঠিক মাপে খেলে বেশিরভাগ মানুষের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই হয় না, আর তাই এটি অনেকেরই প্রথম পছন্দের ব্যথানাশক। মাঝে মাঝে এটি বমি বমি ভাব বা পেটে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে, এবং খুব কম ক্ষেত্রে চামড়ায় র্যাশ দেখা দিতে পারে। প্যারাসিটামলের আসল বিপদ সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়, বরং মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া — যা লিভারের ক্ষতি করে।