রোগ

এসিড রিফ্লাক্স (Acid Reflux - GERD)

Also called: অ্যাসিডিটি (Acidity), বুক জ্বালাপোড়া (Heartburn), জিইআরডি (GERD)

এই পাতাটি যন্ত্রের সাহায্যে অনুবাদ করা হয়েছে

এই অনুবাদ এখনও কোনো ডাক্তার যাচাই করেননি। অর্থ ঠিক থাকার কথা, তবে কিছু অস্পষ্ট মনে হলে ইংরেজি মূলটি পড়ুন।

ইংরেজি মূল পড়ুন
এসিড রিফ্লাক্স (Acid Reflux - GERD)

পাকস্থলীর এসিড যখন উল্টো হেঁটে খাদ্যানালীতে উঠে আসে, তখন বুক জ্বালাপোড়া করে এবং মুখে টক স্বাদ লাগে। একেই এসিড রিফ্লাক্স বলে।

এই তথ্য শুধুমাত্র জানার জন্য। এই তথ্য কেবল শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে সবসময় যোগ্য ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

এই লক্ষণ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান

  • ঘাম হওয়া, শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব, অথবা ব্যথা বাহু, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়ার সাথে বুকের ব্যথা — এটিকে হার্ট অ্যাটাক ধরে জরুরি চিকিৎসা নিন, এন্টাসিড খাবেন না
  • খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া, বা খাবার আটকে যাচ্ছে মনে হওয়া
  • খাবার গেলার সময় ব্যথা হওয়া
  • বমির সাথে রক্ত পড়া, বা আলকাতরার মতো কালো পায়খানা হওয়া
  • চেষ্টা ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া
  • ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সের পর প্রথমবারের মতো এই উপসর্গগুলো শুরু হওয়া
  • রক্ত পরীক্ষায় অ্যানিমিয়া (Anaemia) বা রক্তস্বল্পতা ধরা পড়া

In English:

  • Chest pain with sweating, breathlessness, nausea, or pain spreading to the arm, jaw or back — treat this as a possible heart attack and get emergency help, not an antacid
  • Difficulty swallowing, or food feeling stuck
  • Pain on swallowing
  • Vomiting blood, or black tarry stools
  • Losing weight without trying
  • Symptoms starting for the first time after about age 45 to 50
  • Anaemia found on a blood test

সতর্কতার লক্ষণগুলি ইংরেজিতেও দেখানো হয়েছে, যাতে জরুরি তথ্য শুধু অনুবাদের উপর নির্ভর না করে।

সংক্ষেপে

খাদ্যানালী যেখানে পাকস্থলীর সাথে মিশেছে, সেখানে একটি পেশীর রিং থাকে যা সাধারণ অবস্থায় পাকস্থলীর খাবার নিচে ধরে রাখে। এটি ভুল সময়ে শিথিল হয়ে গেলে এসিড ওপরের দিকে উঠে আসে। এসিড থেকে বাঁচার জন্য খাদ্যানালীতে কোনো সুরক্ষা স্তর থাকে না, তাই আপনার বুক জ্বালা করে।

ভারী বা মশলাদার খাবার খাওয়ার পর মাঝে মাঝে বুক জ্বালা করা খুবই সাধারণ ব্যাপার, এটি কোনো রোগ নয়। তবে এটি বারবার হলে, ঘুমে ব্যাঘাত ঘটালে বা নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন পড়লে একে গ্যাস্ট্রো-ইসোফিজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ বা জিইআরডি (Gastro-oesophageal reflux disease - GERD) বলা হয়।

বেশিরভাগ মানুষই খাবারের অভ্যাস, ওজন ও খাওয়ার সময়ে পরিবর্তন এনে এবং কিছুদিনের জন্য ওষুধ খেয়ে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি জানা দরকার তা হলো — বুকের ব্যথা মানেই সবসময় অ্যাসিডিটি নয়। নিচের বিপদের লক্ষণগুলো খেয়াল করুন।

লক্ষণ

  • বুকে জ্বালাপোড়ার অনুভূতি, যা সাধারণত খাওয়ার পর বা শুয়ে থাকলে বাড়ে
  • গলার পেছনের দিকে টক বা তেতো স্বাদ পাওয়া
  • খাবার বা তরল উঠে মুখে চলে আসা
  • ঢেঁকুর ওঠা এবং পেট ফুলে থাকা
  • শুকনো কাশি বা বারবার গলা পরিষ্কার করার চেষ্টা, বিশেষ করে রাতে
  • সকালে গলা ভেঙে যাওয়া বা কণ্ঠস্বর বসে যাওয়া
  • জ্বালাপোড়া বা কাশির কারণে ঘুমে ব্যাঘাত হওয়া

কারণ কী

  • খাদ্যানালী ও পাকস্থলীর মাঝের পেশীটি দুর্বল হওয়া বা অসময়ে শিথিল হয়ে যাওয়া
  • হায়াটাস হার্নিয়া (Hiatus hernia), যেখানে পাকস্থলীর একটি অংশ ডায়াফ্রামের ওপরের দিকে উঠে যায়
  • পেটের চর্বি বা অতিরিক্ত ওজন, যা পাকস্থলীর ওপর চাপ বাড়ায়
  • গর্ভাবস্থা
  • ধূমপান
  • একবারে অনেক বেশি খাওয়া বা রাতে দেরিতে খাওয়া, এবং খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়া
  • কিছু ওষুধ, যার মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু ব্যথানাশক ওষুধও রয়েছে

কাদের ঝুঁকি বেশি

  • অতিরিক্ত ওজন থাকা, বিশেষ করে পেটের দিকে
  • রাতে দেরিতে খাওয়া এবং খাওয়ার পরপরই ঘুমিয়ে পড়া
  • ধূমপান এবং নিয়মিত মদ খাওয়ার অভ্যাস
  • ঘন ঘন অতিরিক্ত, তৈলাক্ত বা অতিরিক্ত মশলাদার খাবার খাওয়া
  • গর্ভাবস্থা
  • আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) বা ডাইক্লোফেনাক (Diclofenac)-এর মতো ব্যথানাশক ওষুধের দীর্ঘদিন ব্যবহার

পরীক্ষা ও নির্ণয়

  • সাধারণত কোনো পরীক্ষা ছাড়াই শুধু আপনার উপসর্গ দেখেই রোগ নির্ণয় করা হয়
  • কিছুদিনের চিকিৎসায় উপসর্গ কমে গেলে রোগ নির্ণয় নিশ্চিত হয়
  • বিপদের লক্ষণ থাকলে, বেশি বয়সে সমস্যা শুরু হলে, বা চিকিৎসায় কাজ না হলে এন্ডোস্কোপি (Endoscopy) — ক্যামেরা দিয়ে পরীক্ষা করা হয়
  • কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পাকস্থলীর ব্যাকটেরিয়া হ্যালিকোব্যাক্টার পাইলোরি (Helicobacter pylori)-র পরীক্ষা করা হয়

চিকিৎসা

  • একবারে বেশি না খেয়ে বারে বারে অল্প পরিমাণে খান এবং খাওয়ার পর ২ থেকে ৩ ঘণ্টা শুয়ে পড়া থেকে বিরত থাকুন।
  • রাতে সমস্যা হলে বিছানার মাথার দিকটি প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার উঁচু করে নিন। শুধু মাথার নিচে অতিরিক্ত বালিশ দিলে ততটা কাজ হয় না।
  • সামান্য ওজন কমালেও অনেক উপকার পাওয়া যায়।
  • এন্টাসিড (Antacids) পাকস্থলীতে তৈরি হয়ে থাকা এসিড প্রশমিত করে দ্রুত কিন্তু অল্প সময়ের জন্য আরাম দেয়।
  • ওমিপ্রাজল (Omeprazole) বা প্যান্টোপ্রাজল (Pantoprazole)-এর মতো এসিড কমানোর ওষুধগুলো পাকস্থলীতে এসিড তৈরি কমিয়ে দেয়। এগুলো নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য খাওয়ার আগে খেতে হয়।
  • আপনি যদি মাসের পর মাস প্রতিদিন গ্যাসের ওষুধ খেয়ে থাকেন, তবে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে জেনে নিন যে এটি এখনও দরকার আছে কি না বা অন্য কোনো সমস্যা রয়েছে কি না।

প্রতিরোধ

  • ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খান
  • একবারে অনেক না খেয়ে অল্প অল্প করে খাবার খান
  • যেসব খাবারে আপনার সমস্যা বাড়ে সেগুলো চিহ্নিত করুন — এগুলো সবার ক্ষেত্রে এক হয় না
  • ধূমপান ও মদ খাওয়ার অভ্যাস কমান
  • পেটে অতিরিক্ত মেদ থাকলে তা কমান
  • কোমরে আঁটসাঁট পোশাক পরা এড়িয়ে চলুন
  • নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

সপ্তাহে ২ বারের বেশি অ্যাসিডিটি হলে, ঘুমে ব্যাঘাত ঘটলে, বা নিয়মিত ওষুধ দরকার পড়লে ডাক্তার দেখান। বুক ব্যথার সাথে ঘাম, শ্বাসকষ্ট, বা ব্যথা বাহু বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়লে অবিলম্বে জরুরি সাহায্য নিন। খাবার গিলতে কষ্ট হলে, বমির সাথে রক্ত পড়লে, কালো পায়খানা হলে বা কারণ ছাড়াই ওজন কমলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

এটি অ্যাসিডিটি নাকি হার্টের সমস্যা তা কীভাবে বুঝব?

নিজে থেকে নিশ্চিতভাবে বোঝা প্রায় অসম্ভব, আর ঠিক এই কারণেই বিষয়টি এত জরুরি। হার্টের ব্যথায় সাধারণত ঘাম হওয়া, শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব, বা ব্যথা বাহু, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়ার লক্ষণ থাকে এবং শারীরিক পরিশ্রমের কারণে এটি বেশি বাড়ে। কোনো সন্দেহ থাকলে — বিশেষ করে আপনার ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে — এটিকে হার্টের সমস্যা ধরে নিয়ে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা নিন। ভুল করে হাসপাতালে যাওয়া, হার্ট অ্যাটাক অবহেলা করার চেয়ে অনেক ভালো।

প্রতিদিন গ্যাসের ওষুধ খাওয়া কি নিরাপদ?

শুধুমাত্র ডাক্তারের পরামর্শ এবং সময়ে সময়ে পর্যালোচনার মাধ্যমেই তা করা উচিত। এই ওষুধগুলো নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য খাওয়া উচিত। দীর্ঘদিন ব্যবহারে শরীরে ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12) ও ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে এবং হাড় পাতলা হয়ে যেতে পারে। এছাড়া এটি অন্য কোনো বড় সমস্যাকে লুকিয়ে রাখতে পারে যার পরীক্ষা করা প্রয়োজন ছিল।

দুধ খেলে কি অ্যাসিডিটি কমে?

এটি হয়তো কয়েক মিনিটের জন্য জ্বালাপোড়া কমায়, কিন্তু দুধ পাকস্থলীতে আরও এসিড তৈরি বাড়িয়ে দেয়, ফলে কিছুক্ষণ পরই আবার সমস্যা ফিরে আসে। তাই এটি অ্যাসিডিটির কোনো সঠিক চিকিৎসা নয়।

আমার কি মশলাদার খাবার একদম ছেড়ে দিতে হবে?

না, তা সব সময় দরকার হয় না। কোন খাবারে সমস্যা বাড়ে তা সবার ক্ষেত্রে আলাদা হয়। মশলার চেয়ে খাবারের পরিমাণ, খাওয়ার সময় এবং খাওয়ার পর পরই শুয়ে পড়ার অভ্যাসই বেশি প্রভাব ফেলে। খাবারের তালিকা থেকে সব মশলা বাদ দেওয়ার চেয়ে কোন খাবার খাওয়ার পর সমস্যা হচ্ছে তার একটি নোট রাখা বেশি উপকারী।

এই তথ্য শুধুমাত্র জানার জন্য। এই তথ্য কেবল শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে সবসময় যোগ্য ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
চিকিৎসা পর্যালোচক
যোগ্য ডাক্তারের পর্যালোচনা বাকি আছে

সূত্র