এই পাতাটি যন্ত্রের সাহায্যে অনুবাদ করা হয়েছে
এই অনুবাদ এখনও কোনো ডাক্তার যাচাই করেননি। অর্থ ঠিক থাকার কথা, তবে কিছু অস্পষ্ট মনে হলে ইংরেজি মূলটি পড়ুন।
ইংরেজি মূল পড়ুনটাইপ ২ ডায়াবেটিস হল একটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা যেখানে শরীর ইনসুলিন (Insulin) সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না, ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা খুব বেশি থেকে যায়।
সংক্ষেপে
ইনসুলিন (Insulin) হল একটি হরমোন যা রক্ত থেকে সুগার শরীরের কোষে পৌঁছাতে সাহায্য করে, যেখানে এটি শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। টাইপ ২ ডায়াবেটিসে শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনে সঠিকভাবে সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয় এবং সময়ের সাথে সাথে শরীর ইনসুলিন তৈরিও কমিয়ে দেয়।
এর ফলে রক্তে ধীরে ধীরে সুগার জমতে থাকে। এটি নিয়ন্ত্রণে না রাখলে তা ধীরে ধীরে রক্তনালী, স্নায়ু, চোখ, কিডনি এবং হার্টের ক্ষতি করে।
বিশ্বের মধ্যে ভারতে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা অন্যতম বেশি। পশ্চিমা দেশের মানুষের তুলনায় ভারতীয়দের ক্ষেত্রে প্রায় ১০ বছর আগেই এই রোগ হতে দেখা যায়, এবং প্রায়শই শরীরের কম ওজনেও এটি হতে পারে।
এটি ধীরে ধীরে বাড়ে। অনেকে কোনো কিছু না জেনেই বছরের পর বছর এতে ভুগতে থাকেন, তাই আপনার মধ্যে ঝুঁকি থাকলে পরীক্ষা করানো খুবই জরুরি।
লক্ষণ
- স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি তৃষ্ণা পাওয়া
- ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, যার মধ্যে রাতে ঘুম থেকে উঠে প্রস্রাব করাও রয়েছে
- খুব বেশি ক্ষুধা লাগা
- চেষ্টা না করেই ওজন কমে যাওয়া
- ক্লান্তি অনুভব করা বা শরীরে শক্তির অভাব হওয়া
- ঝাপসা দেখা
- কাটাছেঁড়া বা ক্ষত ধীরে ধীরে শুকানো
- বারবার সংক্রমণ হওয়া, যেমন ত্বক ও প্রস্রাবের সংক্রমণ
- হাত বা পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরা বা অবশ ভাব হওয়া
- প্রথম দিকের বছরগুলোতে অনেকের কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না
কারণ কী
- ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স (Insulin resistance) — শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনে সঠিকভাবে সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়
- প্যানক্রিয়াস (Pancreas) যে পরিমাণ ইনসুলিন তৈরি করে তা ধীরে ধীরে কমে যাওয়া
- পেটের চারপাশে অতিরিক্ত চর্বি জমায় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আরও বেড়ে যাওয়া
কাদের ঝুঁকি বেশি
- বাবা-মা, ভাই বা বোনের ডায়াবেটিস থাকা
- অতিরিক্ত ওজন থাকা, বিশেষ করে কোমরের মেদ
- কম শারীরিক পরিশ্রম করা
- দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত হওয়া — অন্য জনগোষ্ঠীর তুলনায় কম ওজনেই এখানে ঝুঁকি শুরু হয়ে যায়
- উচ্চ রক্তচাপ (High blood pressure) বা অস্বাভাবিক কোলেস্টেরল থাকা
- অতীতের গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হওয়া, বা ৪ কেজি-র বেশি ওজনের বাচ্চার জন্ম দেওয়া
- পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS)
পরীক্ষা ও নির্ণয়
- ফাস্টিং ব্লাড সুগার (Fasting blood sugar) — দুবার পরীক্ষায় ১২৬ mg/dL বা তার বেশি এলে ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত দেয়
- এইচবিএ১সি (HbA1c) — ৬.৫% বা তার বেশি; এটি প্রায় তিন মাসের গড় রক্তে সুগারের মাত্রা দেখায়
- ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট (Oral glucose tolerance test) — গ্লুকোজ ড্রিঙ্ক খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর ২০০ mg/dL বা তার বেশি হওয়া
- স্পষ্ট লক্ষণের সাথে র্যান্ডম ব্লাড সুগার (Random blood sugar) ২০০ mg/dL বা তার বেশি হওয়া
- আপনার ডাক্তার আপনার লক্ষণ এবং পরীক্ষার ফলাফল মিলিয়ে রোগ নিশ্চিত করেন, সাধারণত পরীক্ষাটি পুনরায় করে দেখে নেন।
চিকিৎসা
- খাবার এবং শারীরিক কর্মকাণ্ডের পরিবর্তনই মূল ভিত্তি, এবং এগুলো কাজ করে — প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে শুধু এগুলোই যথেষ্ট হয়।
- সাধারণত ডাক্তাররা প্রথমে মেটফর্মিন (Metformin) ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন।
- অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট পাওয়া যায়, এবং কিছু মানুষের ইনসুলিন (Insulin) ইনজেকশনের প্রয়োজন হয়। ওষুধ নির্বাচন নির্ভর করে আপনার সুগারের মাত্রা, ওজন, কিডনির কার্যকারিতা, হার্টের স্বাস্থ্য এবং খরচের ওপর।
- নিয়মিত নজরদারি ওষুধের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ: প্রতি তিন থেকে ছয় মাসে এইচবিএ১সি (HbA1c), এবং প্রতি বছর চোখ, পা, কিডনি, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করানো।
- নিজের মন মতো কখনো ডায়াবেটিসের ওষুধ পরিবর্তন করবেন না বা বন্ধ করবেন না।
প্রতিরোধ
- কোমরের মাপ সঠিক সীমার মধ্যে রাখুন — শুধু ওজনের চেয়ে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ
- সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরনের শারীরিক পরিশ্রম করার লক্ষ্য রাখুন, যেমন দ্রুত হাঁটা
- রিফাইন করা কার্বোহাইড্রেট — সাদা চাল, ময়দা, চিনি — বাদ দিয়ে লাল চাল, মিলেট (Millets), ডাল এবং শাকসবজি খান
- মিষ্টি পানীয় এবং প্যাকেজজাত স্ন্যাকস খাওয়া কমিয়ে দিন
- যে কোনো উপায়ে তামাক গ্রহণ এড়িয়ে চলুন
- কোনো লক্ষণ না থাকলেও, যদি ঝুঁকি থেকে থাকে তবে রক্তে সুগার পরীক্ষা করিয়ে নিন
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
আপনার যদি অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, কোনো কারণ ছাড়া ওজন কমে যাওয়া বা টানা ক্লান্তি অনুভব হয়, তবে ডাক্তারের সাথে দেখা করুন। পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে বা পেটে মেদ বেশি থাকলে, সম্পূর্ণ সুস্থ বোধ করলেও রক্তে সুগার পরীক্ষা করার জন্য বলুন।
সাধারণ প্রশ্ন
ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী কী?
প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে সাধারণত অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি এবং ঝাপসা দেখা অন্তর্ভুক্ত। প্রথম দিকে অনেকের কোনো লক্ষণই থাকে না, তাই জানার একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায় হল রক্ত পরীক্ষা।
স্বাভাবিক ফাস্টিং ব্লাড সুগারের মাত্রা কত?
ফাস্টিং ব্লাড সুগার ১০০ mg/dL-এর কম হলে তা স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। ১০০ থেকে ১২৫ mg/dL হল প্রি-ডায়াবেটিস (Prediabetes), এবং দুবার পরীক্ষায় ১২৬ mg/dL বা তার বেশি এলে ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত দেয়।
টাইপ ২ ডায়াবেটিস কি পুরোপুরি ঠিক বা রিভার্স (Reverse) করা যায়?
কিছু মানুষ, বিশেষ করে যাদের সম্প্রতি রোগ নির্ণয় হয়েছে, তারা লক্ষণীয়ভাবে ওজন কমিয়ে এবং খাবার ও শারীরিক কর্মকাণ্ডে স্থায়ী পরিবর্তন এনে রক্তে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে পারেন। এটিকে রেমিশন (Remission) বলা হয়। এটি সম্পূর্ণ নিরাময় নয় — এই সমস্যা আবার ফিরে আসতে পারে, তাই নিয়মিত ফলো-আপ করা প্রয়োজন।
ডায়াবেটিস হলে কি ভাত খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে?
পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। ভাত একবারে বাদ দেওয়ার চেয়ে ভাতের পরিমাণ এবং সাথে কী খাচ্ছেন তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কম পরিমাণে ভাত খাওয়া, ঢাঁকিছাঁটা বা লাল চাল (Brown rice) অথবা মিলেট (Millets) বেছে নেওয়া এবং সাথে ডাল ও শাকসবজি যোগ করা রক্তে সুগারের ওপর এর প্রভাব কমায়। একজন ডায়েটিশিয়ান (Dietitian) আপনার প্রতিদিনের খাওয়ার অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে সঠিক ডায়েট প্ল্যান তৈরিতে সাহায্য করতে পারেন।