রোগ

টাইফয়েড জ্বর (Typhoid Fever)

Also called: অ্যান্টেরিক ফিভার (Enteric fever), মতিঝরা (Motijhara), স্যালমোনেলা টাইফি সংক্রমণ (Salmonella Typhi infection)

এই পাতাটি যন্ত্রের সাহায্যে অনুবাদ করা হয়েছে

এই অনুবাদ এখনও কোনো ডাক্তার যাচাই করেননি। অর্থ ঠিক থাকার কথা, তবে কিছু অস্পষ্ট মনে হলে ইংরেজি মূলটি পড়ুন।

ইংরেজি মূল পড়ুন
টাইফয়েড জ্বর (Typhoid Fever)

টাইফয়েড হলো দূষিত খাবার বা জল থেকে হওয়া একটি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। এর ফলে দিন দিন জ্বর বাড়তে থাকে, সাথে পেটে অস্বস্তি এবং ভীষণ ক্লান্তি দেখা দেয়।

এই তথ্য শুধুমাত্র জানার জন্য। এই তথ্য কেবল শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে সবসময় যোগ্য ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

এই লক্ষণ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান

  • পেটে প্রচণ্ড ব্যথা, বিশেষ করে যদি হঠাৎ শুরু হয় এবং বাড়তে থাকে
  • পেট শক্ত হয়ে যাওয়া
  • রক্ত বমি হওয়া, বা আলকাতরার মতো কালো পায়খানা হওয়া
  • মানসিক বিভ্রান্তি বা অস্বাভাবিক ঝিমুনি ভাব
  • এগুলি অন্ত্র বা নাড়িতে রক্তপাত বা ফুটো হয়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে, যার জন্য অবিলম্বে অস্ত্রোপচার বা সার্জারি প্রয়োজন

In English:

  • Severe stomach pain, especially if sudden and getting worse
  • A hard, rigid abdomen
  • Vomiting blood, or black tarry stools
  • Confusion or unusual drowsiness
  • These can mean bleeding or a hole in the intestine, which is a surgical emergency

সতর্কতার লক্ষণগুলি ইংরেজিতেও দেখানো হয়েছে, যাতে জরুরি তথ্য শুধু অনুবাদের উপর নির্ভর না করে।

সংক্ষেপে

টাইফয়েড স্যালমোনেলা টাইফি (Salmonella Typhi) নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। সংক্রামিত মানুষের মল দ্বারা দূষিত খাবার বা জল পেটে গেলে এটি ছড়ায় — তাই পরিচ্ছন্নতা ও জলের মানের সাথে এর গভীর যোগাযোগ রয়েছে।

এই জ্বরের ধরনটি বিশেষ ধরনের: একবারে হঠাৎ না বেড়ে, প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিন একটু একটু করে বাড়ে, প্রায়ই ৩৯–৪০°C (39–40°C) পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং তারপর বেশিই থাকে।

চিকিৎসা না করালে টাইফয়েড কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে এবং মারাত্মক সমস্যা তৈরি করতে পারে। সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotic) দিয়ে চিকিৎসা করালে বেশিরভাগ রোগী কয়েক দিনের মধ্যেই সুস্থ বোধ করেন।

ভারতে টাইফয়েডের ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করা (অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স) একটি বড় ও ক্রমবর্ধমান সমস্যা। তাই কোন অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন তা ডাক্তারের কাছ থেকেই জানা উচিত এবং ওষুধের পুরো কোর্স শেষ করা জরুরি।

লক্ষণ

  • জ্বর যা কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বাড়ে এবং তারপর বেশিই থাকে
  • অনবরত মাথা ব্যথা
  • মারাত্মক দুর্বলতা ও ক্লান্তি
  • পেট ব্যথা ও পেট ফাঁপা
  • প্রাপ্তবয়স্কদের কোষ্ঠকাঠিন্য; শিশুদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা বেশি দেখা যায়
  • খিদে না পাওয়া বা অরুচি
  • কিছু মানুষের ক্ষেত্রে শুকনো কাশি
  • জ্বরের মাত্রার তুলনায় নাড়ির গতি (পালস) কম থাকা

কারণ কী

  • স্যালমোনেলা টাইফি (Salmonella Typhi) ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ
  • সংক্রামিত মানুষের মল দ্বারা দূষিত খাবার বা জল পেটে যাওয়া
  • সাধারণ উৎসের মধ্যে রয়েছে পান করার অনিরাপদ জল, বরফ, দূষিত জলে ধোয়া কাঁচা খাবার, এবং টাইফয়েডের জীবাণু বহনকারী কোনো ব্যক্তির তৈরি করা খাবার

কাদের ঝুঁকি বেশি

  • ফোটানো, ফিল্টার করা বা সঠিকভাবে শোধন না করা জল পান করা
  • অস্বাস্থ্যকর জায়গার কাটা ফল, স্যালাড বা ঠান্ডা খাবার খাওয়া
  • আপনি যে এলাকায় থাকেন বা ঘুরতে গেছেন সেখানকার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ
  • টাইফয়েডের টিকা বা ভ্যাকসিন (Vaccine) না নেওয়া
  • টাইফয়েড হয়েছে বা এর জীবাণু বহন করছেন এমন ব্যক্তির কাছাকাছি থাকা

পরীক্ষা ও নির্ণয়

  • ব্লাড কালচার (Blood culture) — সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা, যা টাইফয়েড নিশ্চিত করে। এটি এও দেখায় যে কোন অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে।
  • অসুস্থতার প্রথম সপ্তাহে এবং অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করার আগেই রক্তের নমুনা নেওয়া সবচেয়ে ভালো।
  • কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (Complete blood count বা CBC), যাতে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা কম দেখা যেতে পারে
  • ভারতে উইডাল টেস্ট (Widal test) বহুল ব্যবহৃত হলেও এটি একা বিশ্বাসযোগ্য নয় — নীচের প্রশ্নটি দেখুন

চিকিৎসা

  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক। কোন অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হবে তা নির্ভর করে স্থানীয়ভাবে ওষুধের কার্যকারিতা এবং ব্লাড কালচারের ফলাফলের ওপর।
  • ওষুধের পুরো কোর্স শেষ করুন। মাঝপথে ওষুধ বন্ধ করে দিলে রোগ আবার ফিরে আসতে পারে এবং ওষুধ কাজ না করার আশঙ্কা বাড়ে।
  • প্রচুর তরল খাবার ও বিশ্রাম। জ্বরের জন্য সাধারণত প্যারাসিটামল (Paracetamol) ব্যবহার করা হয়।
  • অন্ত্র বা নাড়ি সুস্থ হওয়ার সময় নরম, সহজে হজম হয় এমন খাবার খাওয়া।
  • মারাত্মক অবস্থা এবং জটিলতার লক্ষণ থাকলে হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

প্রতিরোধ

  • কেবল ফোটানো, ফিল্টার করা বা সঠিকভাবে শোধিত জল পান করুন — এমনকি বরফ তৈরির জলও শোধিত হওয়া চাই
  • তাজা রান্না করা এবং গরম খাবার খান
  • বাইরের কাটা ফল, স্যালাড এবং ঠান্ডা খাবার খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন
  • খাওয়ার আগে এবং শৌচাগার ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধোবেন
  • টাইফয়েডের টিকা (Typhoid vaccine) পাওয়া যায় এবং এটি নেওয়ার বিষয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলা উচিত
  • টাইফয়েড থেকে সেরে ওঠার পর ডাক্তার অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত অন্যের জন্য খাবার তৈরি করা উচিত নয়, কারণ সুস্থ হওয়ার পরেও অনেকের শরীরে জীবাণু থেকে যায়

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

৩ দিনের বেশি সময় ধরে জ্বর থাকলে অবশ্যই ডাক্তার দেখান, বিশেষ করে জ্বর যদি ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং সাথে পেটে অস্বস্তি ও ভীষণ ক্লান্তি থাকে। পেটে প্রচণ্ড ব্যথা, পেট শক্ত হয়ে যাওয়া, কালো পায়খানা বা মানসিক বিভ্রান্তি দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালে যান।

সাধারণ প্রশ্ন

টাইফয়েডের জন্য উইডাল পরীক্ষা (Widal test) কি নির্ভরযোগ্য?

শুধু এই পরীক্ষার ওপর নির্ভর করা যায় না। অতীতে টাইফয়েড হয়ে থাকলে, টিকা নেওয়া থাকলে বা অন্য কোনো সংক্রমণ থাকলেও উইডাল টেস্টের ফলাফল পজিটিভ আসতে পারে — আবার সত্যি টাইফয়েড থাকলেও শুরুর দিকে এর ফল নেগেটিভ আসতে পারে। টাইফয়েড না থাকলেও কেবল উইডাল পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে অনেককে টাইফয়েডের চিকিৎসা দেওয়া হয়। ব্লাড কালচার (Blood culture) পরীক্ষাই প্রকৃতপক্ষে এই রোগ নিশ্চিত করে।

টাইফয়েড জ্বর কত দিন থাকে?

চিকিৎসা না করালে এটি ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক খেলে জ্বর সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে কমতে শুরু করে, তবে ক্লান্তি ভাব এর পরেও কয়েক সপ্তাহ থাকতে পারে।

টাইফয়েড কি আবার ফিরে আসতে পারে?

অল্প কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি আবার ফিরে আসতে পারে, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স নির্দিষ্ট সময়ের আগে বন্ধ করে দিলে। এছাড়াও কিছু মানুষ কোনো লক্ষণ ছাড়াই শরীরে জীবাণু বহন করতে থাকেন এবং খাবারের মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে তা ছড়িয়ে দিতে পারেন।

টাইফয়েডের কি কোনো টিকা আছে?

হ্যাঁ, ভারতে টাইফয়েডের টিকা বা ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। এটি শতভাগ সুরক্ষা দেয় না, তাই নিরাপদ জল ও খাবারের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এখনও জরুরি, তবে টিকা নিলে ঝুঁকি অনেক কমে যায়। আপনার জন্য এই টিকা উপযুক্ত কি না তা ডাক্তারের কাছে জেনে নিন।

টাইফয়েড থেকে কি মৃত্যু হতে পারে?

চিকিৎসা না করালে টাইফয়েড মারাত্মক হতে পারে, এবং অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের আগে অনেকে এই রোগে মারা যেতেন। দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে এখন মৃত্যু বিরল। আসল বিপদ আসে দেরি করা এবং জটিলতা দেখা দেওয়া থেকে — সবচেয়ে মারাত্মক জটিলতা হলো অন্ত্র বা নাড়িতে ফুটো হয়ে যাওয়া (সাধারণত তৃতীয় সপ্তাহে), যার ফলে হঠাৎ পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হয় এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে। এজন্যই জ্বর না কমলে অনুমানের ওপর চিকিৎসা না করে পরীক্ষা করানো উচিত, এবং অ্যান্টিবায়োটিকের পুরো কোর্স শেষ করা অত্যন্ত জরুরি।

এই তথ্য শুধুমাত্র জানার জন্য। এই তথ্য কেবল শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে সবসময় যোগ্য ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
চিকিৎসা পর্যালোচক
যোগ্য ডাক্তারের পর্যালোচনা বাকি আছে

সূত্র